![]() |
| মুঘল বিচার সভা |
মুঘল সাম্রাজ্য, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেই নয়, আইন ও বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও মুঘলরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিল। এই সময়কালে একটি জটিল এবং কার্যকর বিচার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, যা সম্পূর্ণ সাম্রাজ্য জুড়ে ন্যায়বিচার প্রদান করার দায়িত্বে ছিল। এই ব্যবস্থার সফলতার পিছনে ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, যারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে বিচার ব্যবস্থাকে চালিত করেছিল।
মুঘল আমলের বিচার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ
মুঘল
আমলে বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের কর্মকর্তা ছিলেন যারা বিভিন্ন দায়িত্ব
পালন করতেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের ভূমিকা নিম্নে আলোচনা করা হল:
- বাকিল: বাকিল শব্দটি আজকের অর্থে আইনজীবীকে বোঝায় না। মুঘল
আমলে বাকিল ছিলেন সম্রাটের একজন বিশ্বস্ত উপদেষ্টা, যিনি আইনী বিষয়ে সম্রাটকে পরামর্শ দিতেন। আকবরের
শাসনকালে বাইরাম খানের মতো বাকিলরা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে
পরবর্তী সময়ে এই পদের গুরুত্ব কমে যায় এবং শাহজাহানের আমলে এটি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
- মুখতাসিব: মুখতাসিব ছিলেন একজন নৈতিকতা পরিদর্শক। তিনি
জনসাধারণের নৈতিক আচরণ নিরীক্ষণ করতেন, বিশেষ করে অ-মুসলিমদের। তিনি
অসামাজিক কাজকর্ম দমন করতেন এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি প্রদান করতেন। এছাড়া
তিনি ওজন ও পরিমাপের সঠিকতা নিশ্চিত করার দায়িত্বেও ছিলেন।
- প্রধান কাজী: প্রধান কাজী ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ ধর্মীয় বিচারক। তিনি
ধর্মীয় মামলা বিচার করতেন এবং সমগ্র সাম্রাজ্যের কাজীদের নিয়োগ ও তদারক করতেন। সম্রাটের
পর প্রধান কাজীই ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনী কর্মকর্তা।
- কোতোয়াল: কোতোয়াল ছিলেন শহরের পুলিশ প্রধান। তিনি শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। রাতের পাহারা, চোর-ডাকাত ধরা, ওজন ও পরিমাপ পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি কাজ কোতোয়ালের দায়িত্বে ছিল।
মুঘল
আমলের বিচার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
- ধর্মীয় আইন: মুঘল বিচার ব্যবস্থা মূলত ইসলামি আইন বা শরীয়ায় ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তবে
হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের লোকদের জন্যও আলাদা আদালত ছিল।
- সম্রাটের ক্ষমতা: সম্রাট ছিলেন সর্বোচ্চ বিচারক এবং তিনি যেকোনো মামলায় হস্তক্ষেপ করতে পারতেন।
- কাজীর ভূমিকা: কাজীরা ধর্মীয় মামলা বিচার করার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও মতামত দিতেন।
- স্থানীয় প্রথা: স্থানীয় প্রথা ও রীতি অনুযায়ীও অনেক মামলা বিচার করা হত।
উপসংহার
মুঘল
আমলে বিচার ব্যবস্থা একটি জটিল এবং
বহুমাত্রিক ব্যবস্থা ছিল। বিভিন্ন
ধরনের কর্মকর্তা মিলে এই ব্যবস্থাকে
চালিত করতেন। এই ব্যবস্থা আধুনিক ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
আমাদের এই আইন ব্লগের মাধ্যমে আমরা আপনাদের কাছে তথ্যসমৃদ্ধ ও সহায়ক কনটেন্ট পৌঁছে দিতে চাই। আপনার কোনো প্রশ্ন, মতামত বা পরামর্শ থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের জানাবেন। আপনারা আমাদের আর্টিকেলগুলো কেমন পাচ্ছেন বা ভবিষ্যতে কী ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা দেখতে চান, সে সম্পর্কেও আপনার মতামত শেয়ার করতে পারেন।
আশা করি, আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন এবং আমাদের ব্লগটি শেয়ার করে আরও মানুষকে আইনি জ্ঞান লাভে সহায়তা করবেন।
ধন্যবাদ, এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা।
প্রসেনজিৎ দাস
এল.এল .বি, এল, এল, এম (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)


