ফৌজদারি মামলা কী এবং এর ধরনসমূহ (What is a criminal case and its types?)

 


মানুষের সমাজে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আইন অপরিহার্য। যখন কেউ অন্য কারও জীবন, সম্পত্তি, সম্মান বা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অপরাধ করে, তখন সেই অপরাধকে শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য করা হয় এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য যে মামলা হয়, তাকে বলা হয় ফৌজদারি মামলা (Criminal Case)

বাংলাদেশের আইনে দাঙ্গা, খুন, ধর্ষণ, প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, হত্যার হুমকি, অবৈধ জমায়েত, যৌন নিপীড়ন, অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদি সব অপরাধ ফৌজদারি মামলার আওতায় পড়ে।

এই ধরনের মামলায় যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তাকে জরিমানা, কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তি পেতে হতে পারে।


⚖️ ফৌজদারি মামলার ধরনসমূহ ⚖️

ফৌজদারি মামলা প্রধানত চারটি ভাগে বিভক্ত:

১. GR মামলা (General Registered Case)

    এই মামলা থানায় এজহার (FIR) দায়েরের মাধ্যমে শুরু হয়।

  •     ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে।
  •     এজহার গ্রহণের পর, এটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয় এবং একটি জি.আর. নম্বর দেওয়া হয়।
  •     এটি একটি রাষ্ট্রপক্ষীয় মামলা। পুলিশ সরাসরি তদন্ত করতে পারে (ধারা ১৫৬)।

📌 উদাহরণ: ছিনতাই, খুন বা ধর্ষণের ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করলে GR মামলা হয়।

২. CR মামলা (Complaint Registered Case)

  • ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি নিজেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
  • ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ও ১৯০ ধারার ভিত্তিতে আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে।
  • পুলিশ নয়, বাদী নিজে এখানে মামলা করেন।

📌 উদাহরণ: কারও বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত অপমান বা হুমকি দিয়ে শান্তি নষ্ট করার অভিযোগ থাকলে, ভুক্তভোগী নিজে আদালতে CR মামলা করতে পারেন।

৩. Non-GR মামলা জিডি (General Diary) 

  • এন্ট্রি বা সম্ভাব্য অপরাধের আশঙ্কায় পুলিশের মাধ্যমে শুরু হয়।
  • এ ধরনের মামলায় সাধারণত FIR হয় না।
  • আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কোনো অপরাধ ঘটার আগেই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা চাইতে পারে।

➡️ সাধারণত ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭, ১০৮, ১০৯, ১১০ ধারা অনুসারে এসব মামলা হয়।
📌 উদাহরণ: কেউ যদি এলাকায় বারবার গণ্ডগোল করে, পুলিশ তাকে শান্তিপূর্ণ আচরণের অঙ্গীকারে মুচলেকা দিতে বাধ্য করতে পারে।

৪. UD মামলা (Unnatural Death Case)

  • যদি কেউ আত্মহত্যা করে, দুর্ঘটনায় মারা যায়, বা সন্দেহ হয় যে কারও মৃত্যুতে অন্য কারও হাত আছে, তখন পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে।
  • ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ী এই মামলাগুলো শুরু হয়।
📌 উদাহরণ: কেউ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে কিনা নাকি এটা হত্যা—তা নিশ্চিত করতে পুলিশ UD মামলা করে তদন্ত শুরু করে।

⏱️ সারাংশ ও গুরুত্ব

ফৌজদারি মামলা শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতেই নয়, বরং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত—অপরাধ সংঘটিত হলে ভয় না পেয়ে আইনগত পথে প্রতিকার চাওয়া।


আমাদের এই আইন ব্লগের মাধ্যমে আমরা আপনাদের কাছে তথ্যসমৃদ্ধ ও সহায়ক কনটেন্ট পৌঁছে দিতে চাই। আপনার কোনো প্রশ্ন, মতামত বা পরামর্শ থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের জানাবেন। আপনারা আমাদের আর্টিকেলগুলো কেমন পাচ্ছেন বা ভবিষ্যতে কী ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা দেখতে চান, সে সম্পর্কেও আপনার মতামত শেয়ার করতে পারেন।

আশা করি, আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন এবং আমাদের ব্লগটি শেয়ার করে আরও মানুষকে আইনি জ্ঞান লাভে সহায়তা করবেন।

ধন্যবাদ, এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা।

প্রসেনজিৎ দাস

এল.এল .বি, এল, এল, এম (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন