বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা রক্ষা ও আদালতের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার জন্য আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ প্রণীত হয়েছে। এই আইনের আওতায় আদালত অবমাননার শাস্তি এবং আপীলের প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো:
১। আদালত অবমাননার সংজ্ঞা
আদালত অবমাননা বলতে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা, বিচার প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ব্যাহত করা, অথবা আদালতের আদেশ অমান্য করার মাধ্যমে আইন ভঙ্গ করাকে বোঝায়।
২। আদালত অবমাননার শাস্তি
বাংলাদেশের আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আদালত অবমাননার জন্য নিম্নলিখিত শাস্তি প্রদান করা হতে পারে:
২.১। কারাদণ্ড
- আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
২.২। জরিমানা
- আদালত সর্বোচ্চ ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে।
২.৩। উভয় শাস্তি
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত দোষী ব্যক্তিকে কারাদণ্ড এবং জরিমানা উভয়ই প্রদান করতে পারে।
২.৪। ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ
- যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আদালত তা গ্রহণ করে, তবে শাস্তি হ্রাস বা ক্ষমা করা হতে পারে।
৩। আপীল প্রক্রিয়া
আদালত অবমাননার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আপীল করতে পারেন। আপীল প্রক্রিয়ার ধাপগুলো নিম্নরূপ:
৩.১। আপীলের স্থান
- যদি মামলাটি নিম্ন আদালতে হয়, তবে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট ডিভিশন) আপীল করা যেতে পারে।
৩.২। আপীলের সময়সীমা
- রায়ের তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপীল করতে হবে।
৩.৩। আপীল আদালতের ক্ষমতা
- আপীল আদালত দণ্ড স্থগিত, হ্রাস, পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।
- নতুন তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে আপীল আদালত নতুন রায় দিতে পারে।
৩.৪। আপীল প্রক্রিয়ার খরচ
- আপীল করতে নির্ধারিত ফি এবং আইনজীবীর ফি প্রদান করতে হয়।
৪। আদালত অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতির শর্ত
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আদালত অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যেতে পারে:
৪.১। সৎ উদ্দেশ্যে সমালোচনা
- আদালতের সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের সৎ এবং গঠনমূলক সমালোচনা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে না।
৪.২। সরকারি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে
- যদি কোনো সরকারি কর্মচারী তার দায়িত্ব পালনকালে আদালতের আদেশ মেনে চলতে অক্ষম হন, তবে কিছু ক্ষেত্রে তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন।
৫। আইন লঙ্ঘনের গুরুত্ব
আদালত অবমাননার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আদালত অবমাননা শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পুরো বিচার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে।
আমাদের এই আইন ব্লগের মাধ্যমে আমরা আপনাদের কাছে তথ্যসমৃদ্ধ ও সহায়ক কনটেন্ট পৌঁছে দিতে চাই। আপনার কোনো প্রশ্ন, মতামত বা পরামর্শ থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের জানাবেন। আপনারা আমাদের আর্টিকেলগুলো কেমন পাচ্ছেন বা ভবিষ্যতে কী ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা দেখতে চান, সে সম্পর্কেও আপনার মতামত শেয়ার করতে পারেন।
আশা করি, আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন এবং আমাদের ব্লগটি শেয়ার করে আরও মানুষকে আইনি জ্ঞান লাভে সহায়তা করবেন।
ধন্যবাদ, এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা।
প্রসেনজিৎ দাস
এল.এল .বি, এল, এল, এম (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)
